বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন
মৃত্যুর হিসাব মিলছে কন্ট্রোল রুমে, বিভ্রান্তি এবার শেষ!
অনলাইন ডেস্ক
মাইলস্টোন কলেজের অনেক শিক্ষার্থী তাদের বিমান দুর্ঘটনার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, এবং নিহতের সংখ্যা নিয়ে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে প্রকাশ করেছেন তীব্র ক্ষোভ। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করতে কলেজ ক্যাম্পাসেই একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন দুজন উপদেষ্টা। এখান থেকে প্রতিদিন আহত ও মৃতদের সংখ্যা হালনাগাদ করে কলেজের রেজিস্ট্রার বরাবর নির্ভুলভাবে যাচাই করা হবে।
বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই তথ্য জানান তিনি।
তিনি বলেন, গতকাল মাইলস্টোন কলেজে গিয়ে শোকাহত অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেন উপদেষ্টারা। এখনো ভীত, বিমর্ষ ও বিক্ষুব্ধ মনোভাব নিয়েই আছেন সবাই। শিক্ষার্থীরা প্রকাশ করেছেন নিজেদের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা, এবং গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
২০০২ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দেশে বহু বড় দুর্ঘটনার খবর কাছ থেকে কভার করার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। পরিবারগুলো শুরুতে স্বজনদের নিখোঁজ হিসেবে জানান দেয়, পরে হাসপাতাল ও প্রশাসনের তথ্যে পরিচয় শনাক্ত করে।
তিনি জানান, মাইলস্টোন কলেজ চাইলে প্রতিদিনের উপস্থিতি খাতা মিলিয়ে দেখতে পারে কারা অনুপস্থিত রয়েছেন। সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে, কলেজ কর্তৃপক্ষকে দুই উপদেষ্টা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। এখান থেকেই আহত ও নিহতদের হিসাব দেওয়া হবে এবং তা রেজিস্ট্রারের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে।
বিশেষভাবে, উপদেষ্টারা পরামর্শ দিয়েছেন যেন এই কক্ষে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। আমরা আশা করছি, আজকের মধ্যেই এই কন্ট্রোল রুম পূর্ণভাবে চালু হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালভিত্তিক আহতদের অবস্থা জানাচ্ছে নিয়মিত এবং সেনাবাহিনীও সহায়তা করছে এই প্রচেষ্টায়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার নিহত বা আহতদের সংখ্যা গোপন করার কোনো প্রয়োজন বা উদ্দেশ্য রাখে না। প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে কলেজে অবস্থান করে উপদেষ্টারা শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানে কাজ করেছেন, কোনো চাপ প্রয়োগ না করে। প্রয়োজনমতো সেখানে ছিলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে তারা বিদায় নেন।
প্রেস সচিব জানান, এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবাই শহীদ। এ এক জাতীয় শোকাবহ ঘটনা। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে— যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে। সরকার আকাশপথে শূন্য দুর্ঘটনা নিশ্চিতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।